যেমন নির্বাচন প্রয়োজন

যেমন নির্বাচন প্রয়োজন
   আনোয়ার হোসেন জীবন

বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রতিটি নির্বাচন আয়োজন ও সম্পন্ন করতে, সরকার ও প্রার্থী উভয়ের কোটি কোটি টাকা খরচ হয় কিন্তু সে অনুযায়ী রাষ্ট্র, সমাজ বা জনগণের তেমন কোন উন্নতি সাধন হয় না বরং সমাজ ও রাজনীতিতে হিংসা বিদ্বেষ ও শত্রুতা বৃদ্ধি পায়।
তাই আমাদের এমন নির্বাচন প্রয়োজন যাতে অল্প খরচে, জনগণের কর্মঘণ্টা নষ্ট না করে প্রতিটি পদের জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা যায় এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে হিংসা বিদ্বেষ ও হানাহানির পরিবর্তে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্প্রসারণ ঘটে।
এজন্য আমাদের নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গুলো গ্রহণ করতে হবে:
নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিটি নাগরিকের একটি করে আইডি নম্বর রয়েছে। বিটিসিএলের কাছে রয়েছে কোন আইডির অধীনে কতগুলো সিমকার্ড।
উভয় প্রতিষ্ঠানের সফ্টওয়্যার সমন্বয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়, কাদের কোনো সিমকার্ড নেই। তাদের প্রত্যেককে একটি করে সরকারি সিম এবং সম্ভব হলে একটি করে ফোন সরবরাহ করতে হবে। প্রত্যেকের আইডি নম্বর ও একটি করে ফোন নম্বর এমনভাবে সমন্বয় করে রাখতে হবে যেন একটি অন্যটিকে প্রতিনিধিত্ব করে। এরপর এ দুটিকে ভিত্তি ধরে প্রত্যেকের জন্য নিজস্ব একটি করে একাউন্ট থাকবে। ঐ একাউন্টে ঐ ব্যক্তির সমস্ত তথ্য এমনভাবে সন্নিবেশিত থাকবে যে প্রতিটি তথ্য আলাদা আলাদা ভাবে পরিসংখ্যান হালনাগাদে স্বয়ংক্রিয় ভাবে যুক্ত হতে পারে।
এবার প্রতিটি একাউন্ট সরকার নির্ধারিত ব্যাঙ্কের নির্দিষ্ট একাউন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে। তারপর সকল নগদ মুদ্রা বা টাকা তিন মাসের সময় দিয়ে বাতিল বা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করতে হবে। নির্দেশনা থাকবে প্রত্যেকের নগদ টাকা এবং অন্যান্য ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব তার নির্ধারিত একাউন্ট বা হিসাবে সমবেত করতে হবে। তাহলে সরকার স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারবে কার কাছে কত টাকা আছে। যাদের কাছে যত কম আছে তাদেরকে ততবেশি অগ্রাধিকার দিয়ে উপার্জনের ব্যবস্থা করে দিতে হবে অথবা প্রণোদনা দিতে হবে যাতে প্রতিটি নাগরিক তার পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে পারে। তাহলে সরকার প্রতিটি নাগরিকের দৈনন্দিন হালহকিকত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে পারবে এবং যেকোনো সময় যেকোনো নির্দেশনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কার্যকর করতে খুব সহজেই সক্ষম হবে এবং সকল ধরনের দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হবে। সর্বোপরি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার পূরণ করার সাংবিধানিক দায়িত্ব সরকার সুষ্ঠু ভাবে পালন করার সুযোগ পাবে এবং জনগণ‌ও অনিশ্চয়তা ও হয়রানির হাত থেকে রেহাই পাবে। আর যাদের হিসাবে অতিরিক্ত টাকা রয়েছে তা এমনভাবে কাজে লাগাতে হবে যাতে তার প্রতিবেশীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। দেশের প্রতিটি মানুষ ও প্রতি ইঞ্চি জমি উপযুক্ত ভাবে কাজে লাগাতে পারলে জাতির উন্নতি ও অগ্রগতি কেউ ঠেকাতে পারবে না এবং সরকারের‌ও কোন সমস্যা থাকবে না।

প্রতিটি মানুষকে উপযুক্ত ভাবে কাজে লাগাতে হলে এবং প্রতিটি নির্দিষ্ট পদে উপযুক্ত ব্যক্তি নিয়োগ করতে হলে:
প্রতিটি মানুষের ডিজিটাল একাউন্ট বা হিসাবে নিম্নোক্ত তথ্যগুলো সবসময় হালনাগাদ থাকতে হবে:
১। AA (Age & Ability): বয়স ও যোগ্যতা। এখানে যোগ্যতা বলতে দৈনিক কত ঘন্টা কাজ করতে সক্ষম।
২। EE (Education & Experience): শিক্ষা এবং কর্ম অভিজ্ঞতা।
৩। II (Income & I Q) উপার্জন ও বুদ্ধাঙ্ক
৪। OO ( Occupation & Outstanding performance): পেশা ও অসামান্য কার্যকলাপ)
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ক্রমে অন্যান্য বিষয়‌ও যোগ করা যেতে পারে।
কোনো পদে নিয়োগ বা নির্বাচনের জন্য সুচারুভাবে তৈরি সফ্টওয়্যার বা অ্যাপের মাধ্যমে উপরোক্ত তথ্য সাপেক্ষে নির্ধারিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ পয়েন্ট প্রাপ্ত  ১০ জনকে বাছাই করবে। ঐ দশ জনের পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কাছে অনলাইনে পাঠানো হবে। ভোটারগণ উক্ত দশ জনের মধ্য থেকে একজনকে পছন্দ করবেন। এর জন্য একমাস সময় থাকবে। শেষ তারিখের মধ্যে সবাইকে ভোটদান সম্পন্ন করতে হবে তবে শেষ সময়ের পূর্ব পর্যন্ত সংশোধন করার সুযোগ থাকবে। সরকার নির্ধারিত সামাজিক মাধ্যমে এই নির্বাচন পোল ফরম্যাটে পোস্ট করা থাকবে। প্রতিটি ভোটদানের হালনাগাদ পরিসংখ্যান পাবলিকলি প্রদর্শিত থাকবে। শেষ তারিখের পর নির্বাচন কমিশন বাছাই করবেন, কারো ভোট দেয়া বাকী আছে কি না। কেউ বাকী থাকলে জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে একদিনের মধ্যে (প্রয়োজনে ৩-৭ দিনের মধ্যে) শতভাগ ভোটদান নিশ্চিত করবেন। পরেরদিন ঐ দশ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত চার জনকে আবারও পোল আকারে পোস্ট করবেন তবে এবার সময় সাতদিন দেয়া যেতে পারে। পরেরদিন চারজনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত কে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
এভাবে নির্বাচন করে কোটি কোটি টাকা বাঁচিয়ে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা কি আপনি সমর্থন করেন?
তাহলে লাইক করুন বা আপভোট দিন, দ্বিমত থাকলে কমেন্টে লিখুন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জীবনগীতি - ৫০৬

"সবাই স্বজন " ব্লগের মূল্যায়ন

জীবনগীতি - ৫১০