জীবন মানে যন্ত্র না
আমার ডাক নাম জীবন, এটা শুনে অনেকেই মন্তব্য করে, জীবন মানে যন্ত্রনা। তখন আমি বলি, জীবন মানে যন্ত্র না। অনেকের কাছে মনে হতে পারে, যন্ত্রনা শব্দকে ভেঙ্গে দু'ভাগ করেছে; এ আর এমন কী হলো? কিন্তু একটা শব্দকে দু'ভাগ করাতে বাক্যের অর্থ কি বিশাল পার্থক্য সৃষ্টি করেছে তা সাধারণ ভাবে কল্পনাও করা যায় না।
তাই আমি একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি:
সাধারণ ভাবে এই বাক্যের অর্থ জীবন মানে যন্ত্র নয় অর্থাৎ জীবন কখনো কখনো যন্ত্রের মতো কাজ করলেও চূড়ান্ত ভাবে পুরোপুরি যন্ত্র নয়। তাহলে জীবন ও যন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের আলোকে এদের পার্থক্য নির্ণয় করা দরকার:
১। জীবন প্রাকৃতিক ভাবে বা প্রজনন প্রক্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করে কিন্তু যন্ত্র তৈরি করে মানুষ।
২। জীবন ধারণের জন্য অবশ্যই খাদ্য বা জ্বালানী প্রয়োজন কিন্তু কিছু কিছু যন্ত্র চালানোর জন্য জ্বালানী প্রয়োজন হলেও সকল যন্ত্রের জ্বালানী প্রয়োজন হয় না। যেমন: হাতুড়ি বাটাল, কোদাল কুড়াল,করাত ইত্যাদি।
৩। জীবন নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত প্রাকৃতিক ভাবে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় কিন্তু যন্ত্র কখনো বৃদ্ধি পায় না বরং ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
৪। জীবন বংশবৃদ্ধি করে কিন্তু যন্ত্র কখনো বংশবৃদ্ধি করে না।
৫। জীবন নিজে নিজেকে পরিচালিত করতে পারে কিন্তু যন্ত্র অবশ্যই অন্যের দ্বারা পরিচালিত হয়। এই পার্থক্যটাই জীবন ও যন্ত্রের আসল পার্থক্য।
জীবন যখন কোন নিয়ম কানুন, ধর্ম বা বিধি বিধান দ্বারা পরিচালিত হয় তখন সে আর জীবন থাকে না যন্ত্রে পরিণত হয়।
তাই আমি বুঝাতে চেয়েছি, জীবন মানে যন্ত্র না। অর্থাৎ জীবনের স্বাধীনতা রয়েছে কিন্তু যন্ত্রের কোনো স্বাধীনতা নেই, সে সব সময় পরাধীন। তাই বলে কি জীবন যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াতে পারবে? উত্তর হচ্ছে, জীবন তার নিজস্ব চিন্তা ভাবনা বা বিবেক বিবেচনা করে কাজ করবে কিন্তু কখনো অন্যের অসুবিধা সৃষ্টি করবে না। এআই প্রযুক্তির কল্যাণে যন্ত্র নিজে চিন্তা ভাবনা করতে পারলেও তার বিবেক বা বিবেচনা মানুষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বা নির্ধারিত। নির্ধারিত নিয়ম কানুনের বাইরে সে কখনো চিন্তা বা কাজ করতে পারে না। অর্থাৎ জীবন তাই যা অন্যের নির্ধারিত নিয়ম কানুনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজস্ব প্রজ্ঞা বা ব্যাক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটাতে পারে।
তাই সকলের প্রতি অনুরোধ- যন্ত্র নয়, জীবন হওয়ার চেষ্টা করুন।
মন্তব্যসমূহ